একটা চাকরি একজন মানুষের জন্য শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং পুরো একটি পরিবারের চালিকাশক্তি। সেই চাকরি মানুষের জীবিকা নির্বাহ করার উপায় এবং তার চাহিদা নিবারনের ধারক। কিন্তু সেই চাকরির পরিবেশ যদি ভাল না হয়? প্রতিষ্ঠানের বস যদি ভাল না হয়? তাহলে সেই চাকরি হয় বিভীষিকাময়।
আজ তেমন একটি বিভীষিকাময় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কথা বলবো – কাশেম ইন্ডাস্ট্রি। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া গ্রুপটি, ৯০ দশকের দিকে বেশি আলোচনায় আসে। সে সময় তারা ড্রাইসেল ব্যবসার জন্য বেশি পরিচিত ছিলো। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি ড্রাইসেল ব্যবসায়ের বাহিরে, অন্যান্য পরিসেবায়ও সমানভাবে এগুতে থাকে। তাদের বেশ কয়েকটি প্রোডাক্ট সর্বজন সমাদৃত। সানলাইট ব্যাটারি, সান চিপস, ওয়েভ সহ একাধিক প্রোডাক্ট রয়েছে তাদের। এটার পুরো ক্রেডিট প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও তাসভীর উল ইসলাম, একা নিতে চান না, তিনি এর ক্রেডিট তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দিতে চান। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে তাসভীর উল ইসলাম যেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্রেডিট দিচ্ছেন, তিনি কি আদোও খোঁজ নেন তারা কেমন আছেন?
তাসভীর উল ইসলাম কাশেম ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ছাড়াও তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি সভাপতি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম ৩ আসনে তিনি বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। বলা হচ্ছে রাজনৈতিক কাজে সময় দেয়ার জন্যই তিনি গত কয়েক বছর ব্যবসায় পরিপূর্ণ সময় দিতে পারছেন না, বড় একটা সময় তাকে উলিপুর থাকতে হয়। এছাড়া তার কোম্পানি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজে আরও বেশ কয়েকজন পার্টনার ও ডিরেক্টরগণ রয়েছেন। পরিপূর্ণ সময় দিতে না পারায়, কোম্পানিতে যেন তার পারিবারিক প্রভাব বজায় থাকে, তাই তিনি অনেকটা তড়িঘড়ি করেই স্ত্রীকে চেয়ারম্যান এবং বিদেশে পড়া দুই সন্তানকে ডিরেক্টর বানিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে বসিয়েছেন।
তার স্ত্রী রেয়ান আনিস, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পুত্র সামিদ কাসেম প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কন্যা সামিরা রোকাইয়া কাশেম ব্র্যান্ড ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সমস্যার শুরু এই তৃতীয় জেনারেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই। চলুন বিস্তারিত জানা যাক-
বলা হয় বাবা-মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান, কিন্তু কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজের অফিসে গেলেই আপনার সেই ধারণা কিছুটা পাল্টে যাবে। পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট অফিস বনানী এফ আর টাওয়ার হলেও। ২০১৯ সালে সেই টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০ জন আহত হন। পরবর্তীতে ওই ভবনের বর্ধিত অংশের মালিকানায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাসভীর উল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি প্রগতি স্মরণীর আইকন সেন্টারের ৩ টি ফ্লোর ভাড়া নেয়। ভবনটির ৩ ও ৬ তলায় প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারি বসলেও, পরিচালকরা বসেন ৯ তলায়। সেখানে ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও তাসভীর উল ইসলামের কেবিনের পাশে ব্র্যান্ড ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট পরিচালক কন্যা সামিরার স্থান হলেও, সেখানে জায়গা হয় নি, পুত্র সামিদের। প্রতিষ্ঠানে চাউর আছে, বাবার আদুরে মেয়ে হওয়ায় সকল সুবিধা নেন সামিরা। আর তারই ফলস্বরূপ কোন কিছুরই ধার ধারেন না তিনি। যে কাউকে চাইলে চাকরিতে যোগদান করান, আবার যে কাউকে চাইলে মূহুর্তে বের করে দেন। অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে আমরা যখন মাঠে নামি, আমরাও বেশ অবাক হই। গত কয়েকবছরে সামিরা কাশেমের টিম থেকে এবং তার নির্দেশে আনুমানিক ১৫-২০ জনের অধিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বিনা কারণে। যেখানে কাশেম ইন্ডাস্ট্রি তাদের সুন্দর চাকরির পরিবেশের ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত প্রমোশন করছেন এবং সেখান থেকেই জানা যায় তাদের প্রতিষ্ঠানে এখনো অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ বছরের অধিক সময় যাবৎ কাজ করছেন। তাহলে কি এসব শুধুই স্ট্যান্টবাজি?
একজন চাকরি প্রার্থী যখন কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান, তখন তার সাথে যুক্ত হয় তার সম্মান। কোম্পানি যত বড়, পদ যত বড়, সম্মান ততোই বেশি। কেননা আমাদের সমাজে কেউ যখন চাকরি করেন, তিনি অন্যান্য পেশাজীবীদের তুলনায় অধিকতর সম্মানিত হন। আর যদি কোন কারণে তিনি চাকরিচ্যুত হন, হোক সেটা অন্য কারোর দোষে, তখন সেটা সমাজের চোখে একধরনের অপরাধ হিসেবেই গণ্য হয়। সবাই তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখতে থাকে, কোন প্রতিষ্ঠান তাকে পুনরায় চাকরি দিতে চান না। তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রম আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ থাকলেও, বেশির ভাগ ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে চান না, সম্মানহানির ভয়ে। অর্থাৎ কাউকে জানাতে চান না যে তার চাকরি চলে গেছে।
এ বিষয়ের সত্যতা জানতে আমরা কথা বলেছিলাম কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত সাবেক ও বর্তমানে চাকরিরত কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে। যারা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে কথা বলেছেন আমাদের সাথে। তাদের একজন রিতা (ছদ্মনাম), তিনি জানান- আমি খুব গর্ব করে সবাইকে বলতাম আমি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের মত বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমাদের শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ ছিলো। জয়েন করার কয়েক মাস পর দুই দিন ছুটি পেয়ে ইমার্জেন্সি কাজে আমি ঢাকার বাইরে যাই। সামিরা ম্যাডাম হঠাৎ করেই আমাকে কল করে জিজ্ঞেস করে আমি কোথায়? আমি ঢাকার বাহিরে শুনে তিনি সাথে সাথেই কল রেখে দেন। আমি তাকে কয়েকবার কল রিপ্লাই করলে তিনি আর রিসিভ করেন না। দুই দিন পর আমি অফিসে আসার পর এইচআর আমাকে চাকরিচ্যুত করে। আমার অপরাধ আমি তাকে ঢাকার বাহিরে যাবার আগে জানাই নি।
শামীম (ছদ্মনাম) জানান, আমি অন্য একটা বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। অনলাইনে কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের নিয়োগ দেখে আবেদন করি। ইন্টারভিউয়ের সময় সামিরা ম্যাডাম আমাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, জয়েন করার পর আমি সেই পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটিতে পাই নি। দেখা গেল, তিনি আমাকে একটা কাজ দিলো, সাথে টাইম লাইনও বেধে দিলো। ধরুন কাজটা আমাকে ডিজাইনারকে দিয়ে করাতে হবে। আমি কাজটা ডিজাইনারকে দিয়ে শুরু করালাম, এমন সময় তিনি ডিজাইনারকে কল দিয়ে রুমে নিয়ে যাবে, আরেকটা কাজ দিয়ে দিবে। ডিজাইনার আমার কাজ বাদ দিয়ে তার কাজ করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এছাড়া অফিসে তিনি এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন যে ডিজাইনারের সাধ্য নাই, তার কাজ বাদ দিয়ে অন্য কিছু করবে। এদিকে পরের দিন আমাকে ফলোআপ শুরু করবে কাজ কোথায়? এরকম প্রায়ই হতো। একদিন আমি তাকে বিষয়টি বলায় সে আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। আমি বিষয়টি এইচআর অন্যান্য পরিচালক ও সিনিয়রদের জানিয়েছি। এতে হিতে বিপরীত হয়, বরং তার আবদার রাখতেই এইচআর আমাকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করেন। আমি লজ্জায় আইনের আশ্রয় নেই নি।
মিন্নী (ছদ্মনাম) জানান, আমি আসলে এখনো ট্রমায় আছি। আমার ক্যারিয়ার তার (সামিরা) জন্য শেষ। অনেক বছর পরিশ্রম করে নিজের ক্যারিয়ার ব্র্যান্ডিং এ এস্টাবলিশড করেছিলাম। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে জব সেক্টরই চেঞ্জ করেছি। কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজে আমার যেটা কাজ না সেটাই আমাকে বেশি করতে হতো। এরপর অযথাই রুমে নিয়ে গালিগালাজ করতো, অপমান করতো। পরিস্থিতি এমন তৈরি করতো যেন আমি ইচ্ছা করে রিজাইন দেই। আমি ভেবেছিলাম চাকরিই আর করবো না। কিন্তু আমার কি দোষ এই ভেবে প্রতিদিন অফিসে যেতাম। শেষমেষ এমন হয়েছে আমার বস সামিরার মুড পারিবারিক বিষয়ে খারাপ থাকলেও, আমিই গালি খেতাম। সে সময় অনেক জায়গায় এপ্লাই করতাম, চোখের সামনে যেই চাকরির অফার পেতাম। আল্লাহ আমায় এক প্রকার রক্ষা করেছেন।
নুপুর (ছদ্মনাম) বলেন, একবার একটা প্রোডাক্ট লঞ্চ হবে, সে সময় তিনি (সামিরা) বিদেশে। বিদেশে থাকলেও তিনি অনলাইনে মিটিং করতেন। নিয়মিত আমরা তাকে সবকিছুই আপডেট করতাম। আমি তাকে অনলাইন মিটিং এ জানালাম- অন্যান্য ডিরেক্টররা চাচ্ছেন প্রোডাক্টটা যেহেতু লঞ্চ হবে, তাহলে ছোট একটা প্রমোশন প্ল্যান করতে। অনলাইন মিটিং এ আমি ছাড়াও টিমের অন্যান্য মেম্বাররাও ছিলেন। তিনি সকলের সামনে বললেন তিনি আসার পর প্রোডাক্টের লঞ্চিং হবে, এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট যাবে। আমি এভাবেই সব রেডি করলাম। ম্যাডাম দেশে আসার পর এইচআর হেড বিল্লাহ আমাকে তার রুমে নিয়ে গেলেন, আমি রুমে গিয়ে রীতিমত অবাক। তিনি (সামিরা) সব অস্বীকার করলেন। তিনি এইচআরকে বললেন আমাকে একটা নোটিশ দিতে, লঞ্চিং প্রোগ্রাম না হওয়ায় আমার জন্য তার ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে। আমি তাকে এইচআরের সামনেই বললাম, আপনিই তো বলেছেন, লঞ্চিং প্রোগ্রাম আপনি দেশে এসে করবেন, অন্যান্য টিম মেম্বাররাও সাক্ষী আছে। তার পরিপেক্ষিতে তিনি আমায় অপমান করে রুম থেকে বের করে দিলেন। এরপর আমি অন্যান্য মেম্বারদের এইচআরের সামনে নিয়েও প্রমান দিয়েছি। কিন্তু এইচআর হেড বিল্লাহ স্যারের কথা, সামিরা ম্যাডাম মালিকের মেয়ে তার কিছু করার নেই। চাকরি বাঁচাতে এইচআর এর পরামর্শ সামিরা ম্যাডাম যা বলবে সব স্বীকার করে নিবেন। তিনি এভাবে বেশ কয়েকবার আমাকে সব শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়ে গেছেন ম্যাডামের রুমে। অযথা যেই দোষ আমি করি নি, সেটাও আমি স্বীকার করেছি। এগুলো আবার তারা মোবাইলে রেকর্ড করতো প্রমাণ হিসেবে। এরপর এগুলোকে কারণ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করতো।
হাবীব (ছদ্মনাম) জানান, আমি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিতে জয়েন করে হৃদরোগী হয়েছি। এখানে সবচেয়ে বড় প্রেসার সামিরা কাশেমের মুড বোঝা। তার মুড ভালো থাকলে আপনার দিন ভালো যাবে, আর মুড খারাপ থাকলে দিন খারাপ যাবে। তিনি বছরে দুইবার বিদেশে যান। আর সে সময়ই আমাদের ঈদ। আরে তার ক্ষমতা অফিসে সবার চেয়ে বেশি। তিনি চাইলে সরকারি বাধ্যতামূলক ছুটি সবাই পাবে, তিনি না চাইলে পাওনা ছুটিও ক্যান্সেল হয়ে যাবে। মালিকের আদরের মেয়ে বলে কথা!
শাওন (ছদ্মনাম) বলেন, সামিরা ম্যাডাম বাংলা ভালো বলতে পারেন না। ইংরেজিতে কথাই বলেন। কয়েকটা ফেসবুক পোস্ট ডিজাইন করে নিয়ে গিয়েছি। আমি শুধু বলেছি ম্যাম লেখাগুলো বাংলায় হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি মানুষ রিচ করতে পারবো। বলা চলে অনেকটা আমার মুখে কাগজ ছুড়ে মেরেছেন- বলেন “Uneducated Bangladeshi”
মুক্তা (ছদ্মনাম) জানান, আমি আসলে ঘটনাটি বলতে নিজেই লজ্জা পাই। একজন নারী কি করে আরেকজন নারীর সাথে এমন করতে পারে আমার বুঝে আসে না। আমি তখন প্রেগন্যান্ট। ছুটির আবেদন করলাম এইচআরে। দুই দিন পর, সামিরা ম্যাম আমায় রুমে ডেকে বললেন রিজাইন দাও। আমি কেন প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন- “তুমি প্রেগন্যান্ট, ছুটিতে যাবা, তোমার কাজ আমার অন্য লোক দিয়ে করাতে হবে, শুধু শুধু তুমি বেতন কেন নিবা। তাই আমি নতুন লোক নিবো।” আমি এতোটা শক হয়েছি। অনেক প্রেসার দিয়ে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের মত এতো বড় কর্পোরেট হাউজে একজন মানুষের স্বপ্ন ভাঙ্গা হয় ও ভুক্তভোগী সেই পরিবারের আয়ক্ষম সেই ব্যক্তিকে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে ভুক্তভোগীরা একাধিকবার প্রতিষ্ঠানের প্রধান তাসভীর উল ইসলামকে অবহিত করলেও, আদরের মেয়ের অন্যায় আবদার রাখতে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেন নি তিনি। উল্টো ভুক্তভোগীদের কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে, প্রাপ্য বেতন দিতেও গড়িমসি করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। এতো কিছুর পরেও চাকরিচ্যুতদের কেউই লজ্জা এবং ভয়ে মুখ খুলতে চান না এতো বড় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এখনো কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজে অনেকেই মুখ বুঝে মানুষিক নির্যাতন সহ্য করছেন, শুধুমাত্র চাকরি বাঁচিয়ে দু বেলা দু মুঠো খাবার নিজে খাবেন এবং পরিবারের মুখে তুলে দিবেন বলে।
এতোগুলো অভিযোগের সত্যতা জানতে আমরা বহুবার কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজে যোগাযোগ করলেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। তবে আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিষয়গুলো আমলে নিবেন এবং কাজের পরিবেশ ঠিক করবেন।
কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যেমন স্বপ্নের পূর্ণতা, তেমনি বিনা কারণে চাকরি যাওয়াও স্বপ্নের মৃত্যু। আমরা আমাদের প্রতিবেদনে শুধুমাত্র একটি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের সত্যতাই নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কালো দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের চারপাশে এরকম বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে বাহির থেকে আলো ঝলমল করলেও, ভেতরে চরম অন্ধকার।